• 11 May, 2022
  • 0 Comment(s)
  • 63 view(s)
  • লিখেছেন : APDR

মাওবাদী তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার



আমরা খুবই উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি,  সম্প্রতি রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের এসটিএফ বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে 'মাওবাদী' সন্দেহে গ্রেফতার করেছে। মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রতীক ভৌমিক এবং হাসিবুর শেখকে। আমরা জেনেছি তারা  একটি স্থানীয় গণ-সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের সংগে বিরোধের কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। উত্তর 24 পরগনার জাগুলি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জয়িতা দাসকে। বোলপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই প্রাক্তন ছাত্র নেতা টিপু সুলতান এবং অর্কদীপ গোস্বামীকে।  জয়িতা হাসিবুর,  প্রতীককে ইউএপিএ এর বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। সবাইকেই  সিডিশন সহ আইপিসি-র বিভিন্ন ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা জেনেছি,  এই গ্রেফতারের আগে এসব তরুণ-তরুণীদের পুলিশ কার্যত অপহরণ করে নিয়ে যায়। কোন ওয়ারেন্ট ছাড়াই,  কোন এরেস্ট মেমো ছাড়াই, গ্রেফতারির কোনো নিয়ম-কানুন না মেনেই তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বহু সময় তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না।  টিপু সুলতানকে খালি গায়ে লুঙ্গি পরা অবস্থায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায় পুলিশ। পরে বলে তার কাছে 'মাওবাদী' পোস্টার পাওয়া গেছে! অর্কদীপকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে যায়। জয়িতা দাস অটোর জন্য অপেক্ষা করছিল রাস্তায়। মাত্র কিছুদিন আগে, গত ডিসেম্বর মাসের 13 তারিখে, সুন্দরবনের বকুলতলা থানা এলাকায়  জনস্বাস্থ্য  নিয়ে প্রচার করায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তীর্থরাজ ত্রিবেদী এবং আলফ্রেড ডিক্রুজ সহ 4 জন ছাত্রযুবকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আদালতে জামিন পায় তারা। তাদেরও পুলিশ মাওবাদী বলে প্রচার করেছিল। এক্ষেত্রেও শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের চাপে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছিল।  কলকাতা পুলিশ জয়িতা- প্রতীক- হাসিবুরকে একটা অদ্ভুত কেসে যুক্ত করেছে!  কলকাতা ময়দানে 2021 সালের শেষের দিকে পুলিশ নাকি একটা ব্যাগ পেয়েছিল। ঐ ব্যাগে নাকি মাওবাদী পোস্টার, পেন ড্রাইভ ইত্যাদি পাওয়া গেছে। সম্প্রতি পুলিশ আবিস্কার করেছে ঐ ব্যাগের সঙ্গে জয়িতা, প্রতীক, হাসিবুর  জড়িত। এভাবে তো যে কাউকে জড়িয়ে দেওয়া যায়! এখানেই আমাদের আপত্তি।

 এপিডিআর সরকারের রং নির্বিশেষে সরকারের অন্যায় এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে।৫০ বছর ধরে সোচ্চার আছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাজ্যের তৃণমূল সরকারের রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে এপিডিআর তার সাধ্যমত প্রতিবাদে সোচ্চার থাকে। তাই এপিডিআর'কে  সন্ত্রস্ত করার, এপিডিআরকে নষ্ট করার সবরকম অপচেষ্টা শুরু হয়েছে।  এই আশংকাকে জোরদার করেছে ১৮ বছর আগেকার একটি রাস্ট্রদ্রোহের মামলায় রূপা বিশ্বাস নামের একজন এপিডিআর সদস্যের হঠাৎ গ্রেপ্তারিতে। 

একদিকে সরকার ও পুলিশ বারবার বলছে 'মাওবাদী' পোস্টার বলে যা মারা হচ্ছে তা আসলে দুষ্কৃতীরা করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বিজেপির দুষ্কৃতীরা এইসব পোস্টার লাগাচ্ছে,  বিজেপি বলছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এসব পোস্টার লাগাচ্ছে। সবাই বলছে ওগুলো 'আসল' মাওবাদীদের পোস্টার নয়। অথচ মাওবাদী জিগির তুলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্নমতের প্রতিবাদী তরুণ-তরুণীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে পুরছে, রাষ্ট্রদ্রোহ, ইউএপিএ-র মতো ভয়াবহ আইনে মামলা দিচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করে খুবই  ক্ষুব্ধ যে,  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অন্য রাজ্যে গিয়ে বলছেন এরাজ্যে  ইউএপিএ ব্যবহার করা হয় না। বলছেন ইউএপিএ ভয়ংকর আইন। অথচ বাস্তবে রাজ্যে তিনি যথেচ্ছ  ইউএপিএ ব্যবহার  করছেন। সিডিশন বা রাষ্ট্রদ্রোহের আইন-যা সারাদেশে নিন্দিত তা-ও ব্যবহার করা হচ্ছে মুড়ি-মুড়কির মতো। এই ধরনের দ্বিচারিতা কোন মুখ্যমন্ত্রীকে মানায় না।  আমরা দাবি করছি, ইউএপিএ এবং সিডিশন বাতিল সাপেক্ষে এইসব আইন এ রাজ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ  করা হোক।  সম্প্রতি গ্রেপ্তার প্রতীক, জয়িতা, হাসিবুর, অর্কদীপ, টিপু সুলতান সহ সমস্ত রাজবন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক। সমস্ত সাজানো মামলা তুলে নেওয়া হোক। রাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলনের কর্মীদের  সাজানো মামলায় গ্রেপ্তারি সম্পূর্ণ বন্ধ হোক। একই সঙ্গে আমরা দাবি জানাচ্ছি পশ্চিমবাংলার জেলে আটক 70 জনেরও বেশি মাওবাদী সন্দেহে ধৃত বন্দিকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক। এদের অধিকাংশই 10 /12 বছর ধরে বিচারাধীন বন্দী হিসেবে জেলে আটক আছেন। চারজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি 2004 সাল থেকে জেলবন্দি। 14 বছর পার হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। আমরা অবিলম্বে এদের প্রত্যেকের মুক্তি দাবি করছি।

 সামগ্রিকভাবে সরকারের এইসব অগণতান্ত্রিক, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারি ও বে-আইনি  কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রচার অান্দোলন গড়ে তুলতে, জনমত তৈরি করতে,  এপিডিআর সব ধরনের সংবাদ মাধ্যমের  সাংবাদিক, চিত্র সংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

ধন্যবাদ। 

রঞ্জিত শূর,

সাধারণ সম্পাদক, 

গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (APDR) 

18 মদন বড়াল লেন,

কলকাতাঃ৭০০০১৮

Ph: 9433101611

0 Comments

Post Comment






Eternal Vigilance is the Price of Liberty
All Rights Reserved APDR
About us | Contact Us