• 29 January, 2021
  • 0 Comment(s)
  • 69 view(s)
  • লিখেছেন : APDR

স্বৈরচারী  কর্পোরেট শাসনের প্রতিরোধের জন্য কৃষি আইন-বিরোধী আন্দোলন ও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান।



প্রেস বিবৃতি

কলকাতাঃ শুক্রবার, ২৯শে জানুয়ারী, ২০২১

 

কৃষিজমির উপর,  উৎপাদিত ফসলের উপর্‌, নিজেদের পছন্দমত  জীবন যাপনের অধিকারের মত বিষয়গুলি নিয়ে এদেশের কৃষি- নির্ভর মানুষের ঐতিহাসিক সংগ্রামগুলির সামনের সারিতে এখন তিনটি কালা কৃষি-আইন বাতিলের দাবিতে দেশজোড়া কৃষক আন্দোলন। দিল্লীকে ঘিরে কয়েক লক্ষ মানুষের গত ৬৫ দিন ধরে  অবস্থান এবং সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লীর রাস্তায় অগণিত মানুষ এবং ট্রাক্টর নিয়ে অভূতপূর্ব বিক্ষোভ দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করলো। স্বাধীনতার আগের দু’শো বছরের কৃষক তথা  সাধারণ মানুষের সব লড়াই-এর সংগেই স্বাধীনতার প্রশ্নটি জড়িত ছিল। বর্তমান কৃষক আন্দোলন ও নিজেদের তথা দেশের মানুষের দাবি আদায় বা সামগ্রিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে আদানি আম্বানিদের কর্পোরেট রাজের অবসান কেন প্রয়োজন তা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।  দেশের ও প্রজাতন্ত্রের প্রধান অসুখগুলিকে সামনে আনতে চেয়েছে; অন্যদিকে, গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সৃষ্ট ক্রমবর্দ্ধমান ব্যবধানকে ঘোচাতে উদ্যোগী হয়েছে।মৌলিক স্বধীনতা ও মানবাধকার দাবি করছে। তাই, এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন অংশের ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমর্থনে ক্রমশ শক্তিশালী ও বিস্তৃত হয়েছে।

সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লীর রাস্তায় অভূতপূর্ব ট্রাক্টর বিক্ষোভ এবং সারা দেশ জুড়ে এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশকে এপিডিআর স্বাগত জানায়। দিল্লীর সুবিশাল সমাবেশে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে সরকার এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ যে কুৎসা প্রচারে নেমেছে এবং কর্পোরেট স্বার্থবাহী কৃষি আইনগুলির সপক্ষে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালাচ্ছে তারও তীব্র প্রতিবাদ করছে এপিডিআর।

দিল্লীর সমাবেশের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলিও সরকারী মদতে ও তাদেরই পরিকল্পনা মাফিক ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষক সংগঠনগুলির যে নেতারা গত ৬৩ দিন ধরে ঐ সুবিশাল আন্দোলনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করছিলেন,  সরকারের সঙ্গে ধৈর্য সহকারে আলোচনা চালাচ্ছিলেন , ২৬-এ জানুয়ারি প্ররোচনা সৃষ্টির ঘটনাগুলি  ঘটার সময়ও সেগুলো আটকানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই পুলিশি আক্রমণ নামানোর তীব্র বিরোধিতা করছে এপিডিআর ।

আজ এটা স্পষ্ট যে সমস্ত বিরোধী প্রতিবাদ,  ভিন্নমত ও আন্দোলনগুলিকে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকার এবং শাসক এনডিএ- আরএসএস নিজেদেরই করা কোনো অপকর্মের জন্য দায়ী বলে চিহ্নিত করছে। ২০১৮-এর এলগার পরিষদের সমাবেশে আক্রমণকে চাপা দেবার জন্য ১৭ জন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও অধিকারকর্মীকে মাওবাদী ষড়যন্ত্রের সাজানো মামলায় আটক করা,  জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি হামলা চাপা দেবার জন্য আক্রান্ত ছাত্রদেরই ষড়যন্ত্রের মামলায় নিগ্রহ,  এনআরসি - সিএএ বিরোধী শাহিনবাগ আন্দোলনকে ধ্বংস করার জন্য উত্তর-পশ্চিম দিল্লীতে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা লাগানো আবার এই দাঙ্গার জন্য শাহিন-বাগ ও জামিয়ার ভিন্নমতের মানুষদের ইউএপিএ রাষ্ট্রদ্রোহিতার মত মামলায় আটক করা  এবং কাশ্মীরের দমন-পীড়নের মাত্রা চড়ানো কয়েকটি উদাহরণ মাত্র।  প্রতিটি  ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিয়ন্তেণে থাকা এনআইএ-এর মত সংস্থাগুলিকে ভুয়া মামলা সাজিয়ে বিরোধীদের আটক এবং অপরাধী  আরএসএস ও হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতীদের আড়াল করার কাজে নির্লজ্জভাবে লাগানো হয়েছে।

আশঙ্কা মতোই কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলনকে এবং তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এনআইএ-কে দিয়ে ভুয়া মামলা রুজু করা ও গ্রেপ্তারীর প্রক্রিয়া সরকার তৎপরতার সংগে ইতিমধ্যেই শুরু করেছে। আমরা সরকারের এই প্রতিহিংসামূলক আক্রমণের তীব্র নিন্দা করছি। আটক আন্দোলনকারী নেতৃত্বকে মুক্তি দিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সমস্ত মামলা ও দমনমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।

সমস্ত গণতান্ত্রিক মানুষ সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের আহ্বান স্বৈরচারী  কর্পোরেট শাসনের প্রতিরোধের জন্য কৃষি আইন-বিরোধী আন্দোলন ও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। মানবাধিকারের দাবিগুলি নিয়ে এপিডিআরও পাশে থাকবে।

 

ধীরাজ সেনগুপ্ত

0 Comments

Post Comment






Eternal Vigilance is the Price of Liberty
All Rights Reserved APDR
About us | Contact Us