- 07 June, 2026
- 0 Comment(s)
- 19 view(s)
- APDR
প্রেস বিবৃতি ৬ জুন ২০২৬ : লঘু জনপ্রিয়তার লক্ষ্যে আইন রক্ষকের অসাংবিধানিক অবস্থানের প্রতিবাদ
প্রেস বিবৃতি
গত প্রায় এক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তরের নেতা -কর্মীদের দুর্নীতি ও অসামাজিক কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বহু জায়গাতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এক ধরনের 'জনরোষ' দেখা যাচ্ছে। একটু অনুসন্ধান করলেই বোঝা যাচ্ছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই 'জনরোষ' বর্তমান শাসকদলের দ্বারা সংগঠিত। ঘটনার সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটা স্তর পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনকে নিস্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। এটা ঠিকই যে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের চরম দুর্নীতি, অপশাসন, স্বজনপোষণ ও লুম্পেন রাজনীতির ফলে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একধরণের ঘৃণা তৈরি হয়েছে। বর্তমান শাসকদল তাকেই ব্যবহার করে রাজ্য জুড়ে ভয়ংকর এক গণপিটুনির সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে - যা আইন এবং সংবিধানের সম্পূর্ণ বিপরীত। এবং খুবই উদ্বেগজনক।
একই সঙ্গে আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি রাজ্যের পুলিশ পূর্বতন শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত কিছু দুস্কৃতি তথা নেতাকে পুলিশ হেফাজতে বা আদালতে পেশ করার সময় কোমরে দড়ি বেঁধে বা হাতকড়া পরিয়ে হাজির করছে। অনেককে কোমরে দড়ি বেঁধে অন্তর্বাস পরিয়ে খালি পায়ে এমনকি মাথা অর্ধেক কামিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরিয়েছে। দিনের বেলায় সর্বসমক্ষে তারা এই কাজ করেছে। বহু ক্ষেত্রেই রাস্তায় জনতা তাঁদের ঘিরে উল্লাস করেছে, টিটিকারি দিয়েছে। এমনকি ঢিলও ছুঁড়েছে। একের পর এক এই ঘটনা থেকে পরিস্কার প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশেই পুলিশ এই কাজ করেছে। আমাদের আশঙ্কা এই পুলিশই আগামী দিনে ভূয়ো সংর্ঘষে হত্যা করবে। এদের সে ভাবেই প্রস্তুত করা হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য ওসব অভিযুক্তরা এক এক জন বড় দুস্কৃতি এবং তোলাবাজ। অথচ পুলিশ ভালোই জানে যে পুলিশ এই কাজ করতে পারে না। এটা বেআইনি এবং মানবাধিকার লংঘণ।
১৯৮০ সালে Prem Shankar Shukla v. Delhi Administration এবং ১৯৯৫ সালে Citizens for Democracy v. State of Assam মামলায় সুপ্রিম কোর্ট, অভিযুক্ত বন্দিকে হাতকড়া দিয়ে অথবা কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে হাজির করাকে অমানবিক এবং অসভ্য বলে মন্তব্য করেছে এবং পদ্ধতিটিকে পরিহারযোগ্য বলে রায় দিয়েছে। তা সত্বেও, আমাদের আশংকা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইশারায় পুলিশ জেনে বুঝেই জনরোষের কথা বলে কোমরে দড়ি বেঁধে বা হাতকড়া পরিয়ে জনসমক্ষে ঘোরানোর এক জঘন্য পদ্ধতির প্রতি এক ধরনের সামাজিক সম্মতি আদায় করছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের অভিযুক্ত কর্মী বা নেতাদের বিরুদ্ধে প্রায় গণ-বিচার বা গণপিটুনির মত অনভিপ্রেত পরিবেশ তৈরি করছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর) এই আপত্তিজনক অমানবিক পদ্ধতি অবিলম্বে বন্ধ করার এবং অভিযুক্তের আদালতে বিচার এবং শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। শুধুমাত্র লঘু জনপ্রিয়তার লক্ষ্যে আইন রক্ষকের এই অসাংবিধানিক অবস্থানের আমরা তীব্র নিন্দা করছি । কাউকে শাস্তি দিতে পারে একমাত্র আদালত। পুলিশ কাউকে শাস্তি দিতে পারে না। যতবড় অপরাধীই হোক না কেন পুলিশ কাউকে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘুরিয়ে তার সম্মান ও মর্যাদা নষ্ট করতে পারে না। মনে রাখতে হবে ভারতের বিচার ব্যবস্থার দর্শন হলো, কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত না আদালতে দোষী প্রমানিত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সে নির্দোষ। বন্দির জীবন ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ধন্যবাদ সহ
আলতাফ আমেদ
সাধারণ সম্পাদক
এপিডিআর
৬ জুন ২০২৬
